ঢাকা, সোমবার, ২০ এপ্রিল, ২০২৬

সংসদে নিজেকে শহীদ পরিবারের সন্তান দাবি করলেন শফিকুর রহমান

ads

জাতীয় সংসদের চলমান অধিবেশনে গণভোট এবং জুলাই সনদ নিয়ে এক গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার সূত্রপাত হয়েছে। আজ মঙ্গলবার বিকেলে শুরু হওয়া ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের এই অধিবেশনে আলোচনার শুরুতেই এক বিশেষ দাবি উত্থাপন করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। সংসদীয় কার্যক্রমের শুরুতেই তিনি নিজেকে একটি ক্ষুদ্র শহীদ পরিবারের সন্তান হিসেবে পরিচয় দেন। উল্লেখ্য যে, জাতীয় সংসদে এটিই ডা. শফিকুরের পক্ষ থেকে দেওয়া এ ধরনের প্রথম আনুষ্ঠানিক বক্তব্য।


অধিবেশন চলাকালে ডা. শফিকুর রহমান দেশের বর্তমান প্রেক্ষাপট ও স্বাধীনতার ৫৪ বছরের অর্জন নিয়ে কথা বলেন। তিনি আক্ষেপ করে জানান, স্বাধীনতার এতগুলো বছর অতিবাহিত হলেও দেশের মানুষের বিপুল প্রত্যাশা এবং স্বাধীনতার পূর্ণ আকাঙ্ক্ষা এখনো পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয়নি।


স্পিকারের উদ্দেশে কথা বলার সময় তিনি স্পিকারের বীরত্বগাথার প্রসঙ্গটি সামনে আনেন। তিনি বলেন, স্পিকার নিজে একজন গর্বিত বীর মুক্তিযোদ্ধা ও বীর বিক্রম। সেই সূত্র ধরেই নিজের পারিবারিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে জামায়াতের আমির জানান, মহান মুক্তিযুদ্ধে যারা জীবন দিয়েছিলেন, তার নিজের পরিবারের কয়েকজন সদস্যও রক্ত দিয়ে সেই শহীদদের তালিকায় শামিল হওয়ার সৌভাগ্য অর্জন করেছেন।


রাজনৈতিক মহলে ডা. শফিকুর রহমানের এই বক্তব্য নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এর আগে বিভিন্ন রাজনৈতিক জনসভা বা ঘরোয়া অনুষ্ঠানে তিনি নিজেকে শহীদ পরিবারের সদস্য হিসেবে দাবি করলেও দেশের সর্বোচ্চ আইনসভায় এবারই প্রথম বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নথিভুক্ত হলো। তার এই আবেগঘন বক্তব্য চলাকালে সংসদ কক্ষে অন্য সদস্যদের উপস্থিতিও ছিল লক্ষ্যণীয়।


আজকের অধিবেশনে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন ও সংবিধান সংস্কার নিয়ে সরকারি ও বিরোধী দলের সদস্যদের মধ্যে দীর্ঘ আলোচনার প্রস্তুতি দেখা গেছে। ডা. শফিকুর রহমানের এই প্রারম্ভিক বক্তব্যের পর সংসদীয় কার্যসূচি অনুযায়ী পরবর্তী আলোচনাগুলো শুরু হয়। সংসদ সচিবালয় সূত্রে জানা গেছে, আজকের এই অধিবেশনে জুলাই মাসের ঘটনাবলি এবং রাষ্ট্রের সংস্কার নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ কিছু সিদ্ধান্ত আসার সম্ভাবনা রয়েছে। মূলত দেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে এই অধিবেশনটি সাধারণ মানুষের কাছেও বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে।

ads
ads
ads

Our Facebook Page